আজ (মঙ্গলবার) থেকে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এ সিদ্ধান্তকে এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে ভারতের গার্মেন্টসশিল্পের কেন্দ্রস্থল তিরুপুরে নেমেছে স্থবিরতা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিরুপুরের গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে কর্মীদের চোখেমুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। এন কৃষ্ণমূর্তি’স নামের একটি গার্মেন্টস ইউনিটে ২০০ সেলাই মেশিন থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র কয়েকটি।
শুধু তিরুপুর থেকেই প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এখানকার পোশাক যায় টার্গেট, ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ও জারার মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের কাছে।
রাফট গার্মেন্টসের মালিক শিবা সুভ্রামানিয়াম বলেন, ‘ভারত একটি শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে ১০ ডলারে। একই শার্ট চীন বিক্রি করে ১৪.২০ ডলারে, বাংলাদেশ ১৩.২০ ডলারে ও ভিয়েতনাম ১২ ডলারে। শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ হলেও ভারত এশিয়ার প্রতিযোগীদের পেছনে থাকবে।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে ভারত সরকার এবং বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ খুব একটা কার্যকর হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে শুধু পোশাক নয়, হিমায়িত চিংড়ি, রত্ন ও গয়নাও রপ্তানি করে ভারত। দেশটি প্রতিবছর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের রত্ন ও গয়না রপ্তানি করে থাকে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের গয়না যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়।
কিন্তু শুল্কের কারণে মার্কিন ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত করায় গয়নার কারখানাগুলোতে মাসে কাজ হচ্ছে মাত্র ১৫ দিন। এতে হাজারো কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গয়না শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে।
এশিয়া গ্রুপের অ্যাডভাইজরি ফার্মের গোপাল নাদ্দুর বলেন, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি হবে কি না তা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে। তবে ভারতের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের এখন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের বাজারও ধরতে হবে।’
সূত্র: বিবিসি


