শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত সেবা-আবাসন খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড দেশের রিয়েল এস্টেট খাতে নিজের অবস্থান মজবুত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে এফডিআর (ফাইন্যান্স ডিপোজিট রেট) ৪৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ঋণমুক্ত ব্যবসার শীর্ষে থাকা এবং শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছে।
ইস্টার্ন হাউজিং ২০১৬ সালে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ বোঝার কারণে সংকটে পড়েছিল। তবে কোম্পানিটি সেই সময়কে অতিক্রম করে পুনরায় শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বড় এবং স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার শহুরে এলাকায় আধুনিক ও পরিকল্পিত আবাসন প্রদানকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে।
ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো দক্ষিণ বনশ্রী, বনশ্রী, মহানগর, নিকেতন, ছায়াবিথি, প্যারাডোগা, ভেমর, পল্লবী ফেস-১ ও ফেস-২, মায়াকানন, সভার, আফতাবনগর ও রায়েরবাজার। আফতাবনগর প্রকল্পটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে ইস্টার্ন হাউজিং আধুনিক শহুরূপে এলাকাটিকে গড়ে তুলছে। আফতাবনগরের প্রকল্প ইনচার্জ মেজর মোঃ আলতামাস করিম, পি এস সি (অব:) এর নেতৃত্বে এলাকা দ্রুত পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় রূপান্তরিত হচ্ছে।
ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জহুরুল ইসলাম ১৯৬৫ সালে কোম্পানিটি শুরু করেন। ঢাকার পল্লবী থানায় ৭০০টি বাড়ি নির্মাণ ও ৯১০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমবর্ধমানভাবে দেশের রিয়েল এস্টেট খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধীরাজ মালাকার নেতৃত্বে কোম্পানিটি লাভজনক অবস্থায় রয়েছে।
কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আর্থিক ফলাফলও সন্তোষজনক। ২০২৪ সালে ১৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়েছে। আলোচ্য বছরে শেয়ার প্রতি আয় ৬ টাকা ০৪ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ৮৩ টাকা ৬২ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় ১ টাকা ৮৩ পয়সা। বর্তমানে রিজার্ভ ৬৮৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ৯১ টাকা ৩০ পয়সা।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার বাইরে সাভারের আমিনবাজারে ৬০০ একরের মতো কয়েকটি নতুন প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছি, যা রাজউকের অনুমোদন পেলেই বাস্তবায়ন হবে। ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড দেশের রিয়েল এস্টেট খাতে দীর্ঘমেয়াদী এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান ধরে রাখছে।


