বুধবার (১৩ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় সাদাপাথর রক্ষায় পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—২৪ ঘণ্টা সাদাপাথর এলাকায় যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) লুটপাটের পর সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র। নজিরবিহীন লুটপাটে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র প্রায় বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় সাদাপাথর রক্ষায় পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—২৪ ঘণ্টা সাদাপাথর এলাকায় যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ।বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেট সার্কিট হাউসে সর্বস্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মিলিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো
১. জাফলং ইসিএ এলাকা ও সাদাপাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের চেকপোস্ট যৌথ বাহিনীসহ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। ৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করার অভিযান চলমান থাকবে। ৪. পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হবে। ৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই চলছে লাগামহীন লুটপাট। প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনেই সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রের পাথর লুটে নেওয়া হয়। পরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ থাকলেও গত মাসের শেষ দিকে লুটপাট আরও বেড়ে যায়। ওই সময়ে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ঢলের সঙ্গে বিপুল পাথর নেমে আসে। এরপর থেকে হাজারো শ্রমিক প্রতিদিন শত শত নৌকা দিয়ে পাথর লুট করে নিয়ে যায়। সোমবার পর্যন্ত এ লুটপাট চলে।
তবে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার পর মঙ্গলবার সাদাপাথরে গিয়ে পাথর তুলতে কাউকে দেখা যায়নি। যদিও গত ১৫ দিনেই সাদাপাথরকে একেবারে বিরানভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময়ে কয়েকশ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। শুধু পাথর নয়, নদীর তীরের বালু ও মাটিও খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে।


