দ্বিতীয় দফার বাণিজ্য আলোচনার তৃতীয় ও শেষ দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তবে কিছু বিষয় এখনও মীমাংসা হয়নি। দুই দেশের প্রতিনিধিদল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবার বৈঠকে বসবেন, যা ভার্চুয়াল অথবা সরাসরি মুখোমুখি—দুটি পদ্ধতিতেই হতে পারে। খুব শীঘ্রই আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য সময় এবং তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামাজিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে তিন দিনের এই আলোচনার পর শনিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দেশে ফিরে আসবেন। প্রয়োজনে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে যান আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়ব ঢাকায় বসে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তিন দিনের আলোচনার পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের উদ্যোগে এবং সহযোগিতায় চলমান এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সমাধানে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উভয় পক্ষই এই আলোচনাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো সম্প্রসারিত করবে। আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পরবর্তী রাউন্ডের আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে আলোচনা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা যায়।


