গত ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানায় সংঘটিত হামলার পর লুট হওয়া প্রায় এক হাজার ৪০০ অস্ত্র ও আড়াই লাখ রাউন্ড গুলি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্রগুলো দুষ্কৃতিকারীদের হাতে থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট, সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় গণঅভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা চীনা রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, শটগানসহ ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১টি গোলাবারুদ লুট করে। এরপর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বেড়ে যায় ছিনতাই, ডাকাতি এবং সহিংসতা। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় পুলিশের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ৩৭১টি অস্ত্র ও সাড়ে তিন লাখের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনো প্রায় এক হাজার ৪০০ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে।র্যাব-২ এর অধিনায়ক মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, “অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি এবং কোনো অন্যায়কারীর ছাড় নেই।”
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর জানান, “উদ্ধারকাজ চলছে, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তবে আট মাসেও সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “অস্ত্র উদ্ধারে যত বিলম্ব হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত নাজুক হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। বিশেষ করে উৎসবের সময় অপরাধ বৃদ্ধির শঙ্কা থাকে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবশিষ্ট অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে সমন্বিত ও দ্রুততর অভিযান চালানো জরুরি, যাতে দুষ্কৃতিকারীরা এগুলো ব্যবহার করে আর কোনো অপরাধ ঘটাতে না পারে।


