রাজধানী ঢাকায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার একটি পাপেট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী সুলতানি ও মুঘল আমলের বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনার মাঝে এই চরিত্রের অন্তর্ভুক্তি বেশ কিছু প্রশ্ন এবং কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
ঈদের এই বিশেষ আয়োজনে বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আয়োজকরা বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করেন। মিছিলের অংশ হিসেবে বিশাল আকৃতির পাপেট শো প্রদর্শিত হয়, যার মধ্যে আলাদীন, আলী বাবা-চল্লিশ চোরসহ নাসিরুদ্দিন হোজ্জার পাপেটও ছিল। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই আয়োজন ছিল আনন্দদায়ক।
মিছিলের পর নাসিরুদ্দিন হোজ্জার পাপেটটির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই এটি দেখে হাস্যরস উপভোগ করলেও, কিছু দর্শক পাপেটের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাদৃশ্য খুঁজে পান। তাদের মতে, পাপেটের গঠন এবং পোশাক কোনো রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
তবে পাপেট নির্মাতা জাহিদুল হক এই অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি জানান, এই পাপেট তৈরির নকশা নেওয়া হয়েছিল একটি আরবি বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে এবং এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক ছিল। তিনি বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিকে ব্যঙ্গ করার জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং শিশুদের আনন্দ দিতেই এটি বানানো হয়েছে।”
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই আনন্দ মিছিল আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিল। উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “নাসিরুদ্দিন হোজ্জা বাংলা সাহিত্যেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাকে মিছিলের অংশ করা সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।”
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “এ ধরনের আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির প্রকাশ এবং বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।”
সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই পাপেটটি দেখে উপভোগ করেছেন, আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। তবে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আয়োজকরা ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিতভাবে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায় এবং ঈদের আনন্দ সকলের জন্য একইভাবে উপভোগ্য হয়।
আমি একটি নতুন সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করেছি, যেখানে ঈদ মিছিলে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার পাপেটের বিষয়টি নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি আপনি কোনো পরিবর্তন বা সংযোজন চান, জানাতে পারেন!


