রাজধানীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত আবদুল গণি শেখের (৪৫) পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী লাকি আক্তার, উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া ছেলে আলামিন শেখ এবং ছয় বছর বয়সি মেয়ে জান্নাত গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল গণি জীবিকার তাগিদে রাজধানীর গুলশানের একটি আবাসিক হোটেলের কারিগরি বিভাগে কাজ করতেন। গত বছরের ১৯ জুলাই কর্মস্থলে যাওয়ার পথে শাহজাদপুরে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। তার মৃত্যুর পর থেকে পরিবারটি নিদারুণ কষ্টে আছে।
লাকি আক্তার বলেন, “প্রতি ঈদে স্বামী বাড়িতে এলেও এবার আর ফিরবেন না। গত কোরবানির ঈদে না আসতে পারলেও আমাদের জন্য পোশাক পাঠিয়েছিলেন। এবার বলেছিলেন ঈদের আগেই বাড়ি আসবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হলো না। আমাদের জীবনে আর কোনোদিন ঈদের আনন্দ আসবে না।”
গণি শেখের ছেলে আলামিন শেখ বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমাদের সুখে রাখার। তিনি তার নির্মাণাধীন বাড়িটি ঈদের আগেই শেষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে। বাবাকে ছাড়া ঈদ উদযাপন কেমন হবে, তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।” ছোট বোন জান্নাত বাবার অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু তাকে বোঝানো কঠিন যে বাবা আর ফিরে আসবেন না।
শহীদ গণির পরিবারসহ আন্দোলনে নিহত তিনটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, “আমরা শহীদ গণির পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী পাঠিয়েছি, তাদের খোঁজ নিয়েছি এবং তার স্বপ্নের বাড়িটি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করছি। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকেও সহায়তা এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বজন হারানোর শোক কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। ঈদে তাদের কষ্ট কিছুটা ভাগ করে নিতে চাই।”
গণি শেখের পরিবার এবার ঈদের দিন কোনো আনুষ্ঠানিক আনন্দের আয়োজন করছে না। স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, “সন্তানদের জন্য শুধু সেমাই রান্না করব, আর শহীদ গণির আত্মার শান্তির জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করব।” আবদুল গণির পরিবারের মতো আরও অনেক শহীদ পরিবারের জন্য এবারের ঈদ শুধুই বেদনার দিন।


