প্রতি বছর ঈদের সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে লাখো মানুষ গ্রামের পথে পাড়ি জমায়। এতে সড়ক-মহাসড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, যা যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ঈদ উপলক্ষে কিছু পদক্ষেপ নিলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলবে না; বরং সারা বছর নিয়মিত তদারকি করাই একমাত্র পথ।
দেশজুড়ে যানজট প্রবণ ১৫৯টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ঈদের আগেই সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে বের হওয়ার প্রধান রুটগুলোর অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে বাইপাইলসহ বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশের ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে, যা ঈদযাত্রায় আরও বাড়তে পারে। এছাড়া উত্তরবঙ্গগামী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর চার লেন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে এ পথেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
যানজটের পাশাপাশি এবার মহাসড়কে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে সড়কপথে ১,৮৬৮টি ছিনতাই ও ১১৩টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বাস মালিকরা জানিয়েছেন, ডাকাতরা সাধারণত যাত্রীবেশে বাসে উঠে লুটপাট চালায়, যা ঈদের সময় আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এবার বাস চালকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে পথে কোনো অপরিচিত যাত্রীকে তোলা না হয়। গতবারের তুলনায় এবার বিশেষ ঈদ ট্রেনের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এতে সড়কপথে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঈদের সময়কার সমস্যা শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। ঢাকা কেন্দ্রিক জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি।
এবার ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট কমাতে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরানোর কাজও চলছে। পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন যাত্রার জন্য শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ যাত্রীদেরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


