পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগির দাম গত কয়েকদিনে কেজিপ্রতি ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ানবাজার ও কেরানীগঞ্জের আগানগরসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ১৮০-১৯০ টাকার মধ্যে ছিল। সোনালি মুরগির দাম ৪০ টাকা বেড়ে ২৮০-৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৬৮০ টাকায়, সাদা লেয়ার ২৮০ টাকায় এবং লাল লেয়ার ৩০০ টাকায়। হাঁসের দামও কিছুটা বেড়েছে, প্রতিটি হাঁস ৬০০-৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছর ঈদের আগে মাংসের চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বাড়ে। কারওয়ানবাজারের মুরগি বিক্রেতা দিদার বলেন, “ঈদের কেনাকাটার সাথে সাথে মানুষ খাওয়া-দাওয়াতেও মনোযোগী হয়। তাই চাহিদা বাড়তেই সরবরাহ কিছুটা কমে যায়, ফলে দাম বাড়ে।”
আরেক ব্যবসায়ী স্বাধীন বলেন, “পাইকারি বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। খামারিরা কম পরিমাণে মুরগি ছাড়ছেন, এতে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, ক্রেতারা মনে করছেন, এটি ব্যবসায়ীদের কৌশল। কেরানীগঞ্জের বাজারে মুরগি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি উৎসবের আগেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়। সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ বেশি দাম দিয়ে মুরগি কিনতে বাধ্য হয়।”
তবে মুরগির বাজারে পরিবর্তন এলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো আগের মতোই আছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২৫০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের মাংস ব্যবসায়ী খালেদ হাসান বলেন, “রমজানে গরুর মাংসের চাহিদা কিছুটা কম থাকে, তাই দাম স্থিতিশীল রয়েছে।”
মাংসের পাশাপাশি ডিমের বাজারেও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০-১২৫ টাকা, সাদা ডিম ১১০-১১৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০-২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তারা চান, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর হোক। ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ বা বিশেষ কোনো উৎসব এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি করেন। সরকার ও ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলোর কঠোর মনিটরিং থাকলে এ ধরনের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করা সম্ভব হবে।


