সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, তার পরিবার এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৯১টি হিসাবের ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকা জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ নির্দেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম জানান, সামিট গ্রুপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। এর অংশ হিসেবে দুদকের পক্ষ থেকে ১৯১টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করা হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।
দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের আবেদনে বলা হয়, সামিট গ্রুপ এবং তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিভিন্ন সঞ্চয়ী, এফডিআর ও অন্যান্য ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে, যা সন্দেহজনক। যেকোনো সময় এই অর্থ বিদেশে পাচার বা গোপন করার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী ১৯১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান দেশের অন্যতম শিল্পপতি। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ফারুক খানের ভাই। সামিট গ্রুপ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করে আসছে। তবে সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। দুদকের চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত এই হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন, যা দেশে অর্থ পাচারবিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই আদেশের ফলে সামিট গ্রুপের আর্থিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


