সাংবাদিকদের জন্য সুলভ মূল্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় রাজধানীসহ সারা দেশে স্বল্পমূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলছে।
শনিবার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
সাংবাদিকদের জন্য সুলভ মূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, “সাংবাদিকরা দিনরাত কাজ করে দেশের মানুষের জন্য সংবাদ পরিবেশন করেন। তাদের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” তিনি আরও বলেন, “রমজান মাসে বাজারে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের দাম বেড়ে যায়। এই ধরনের উদ্যোগ না থাকলে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্যও মানসম্পন্ন খাবার কেনা কঠিন হয়ে যেত। সরকারের এ উদ্যোগ বাজার নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।”
সরকার নির্ধারিত দামে সাংবাদিকরা প্রেসক্লাব থেকে দুধ, ডিম ও মাংস সংগ্রহ করতে পারছেন। এসব পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে—
ড্রেসড ব্রয়লার মাংস: প্রতি কেজি ২৫০ টাকা
পাস্তুরিত দুধ: প্রতি লিটার ৮০ টাকা
ডিম: প্রতি ডজন ১১৪ টাকা
গরুর মাংস: প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম রমজান থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় রাজধানীর ২৫টি স্থানে প্রতিদিন কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে প্রায় ১,০০০ স্পটে এই কার্যক্রম চলছে। গত ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি টাকার খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই ৫২,৪৫৩ জন ক্রেতা এই সুবিধা নিয়েছেন, যার মধ্যে নারী ক্রেতার সংখ্যা ২৭,৩০৮ এবং পুরুষ ক্রেতা ২৫,১৪৫ জন।
এই উদ্যোগের ফলে সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতারা।


