রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নীতিমালা থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা থাকলেও এর প্রয়োগে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। সোমবার (৩ মার্চ) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এর অপব্যবহার হতে পারে। অতীতে অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি, বিশেষ করে হত্যামামলার দণ্ডিতরা ক্ষমা পেয়েছেন, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তোলে।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা কখন, কীভাবে ও কোন বিবেচনায় প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে। ফলে, এই ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালা প্রয়োজন। রিট আবেদনকারীর যুক্তি অনুযায়ী, ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নীতিমালা না থাকায় এটি সংবিধানের ৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এসব অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার, আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। তাই, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত যেন বিচারিক প্রক্রিয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই রুলের ফলে সরকারকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নীতিমালা থাকা উচিত কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে সংবিধানের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।


