একুশের প্রথম প্রহর থেকেই ভাষা শহীদদের স্মরণে ঢল নেমেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ভোরের আলো ফোটার আগেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা ফুল হাতে শহীদ মিনারের দিকে ছুটে আসেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ছোট থেকে বড়, সবাই যোগ দিয়েছেন প্রভাত ফেরিতে।
প্রভাত ফেরির সুর, হাতে ফুল আর চোখে একুশের চেতনা নিয়ে মানুষের ঢল শহীদ মিনারে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বাবা-মায়ের হাত ধরে এসেছে শিশুরাও, যারা ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের গল্প শুনে বড় হচ্ছে। চারপাশে গুঞ্জন ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বাংলা ভাষার মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।শ্রদ্ধা নিবেদনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একে একে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা—সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে শহীদদের স্মরণ করে প্রতিজ্ঞা করছেন শুদ্ধ বাংলা চর্চার। সাধারণ মানুষ শহীদ মিনারে প্রবেশ করছেন পলাশী মোড় দিয়ে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হচ্ছেন চাঁনখারপুল ও কার্জন হল হয়ে। পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ঢল নির্বিঘ্নে শহীদ মিনারে পৌঁছাতে পারে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকে বলছেন, ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ, তা যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করছেন অনেকে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলা ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহার ও চর্চার আহ্বান জানানো হচ্ছে সর্বস্তর থেকে।একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই আশা করছে, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও শুদ্ধ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের চেতনা আরও দৃঢ় হবে।


