রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বহরপুর বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই যথাযথ ব্যবস্থার অভাবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানগুলোর অধিকাংশ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বহরপুর বাজারের মুদি দোকানি শ্যামল কুমারের দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে আশরাফুল হোসেন লুলুর কাপড়ের দোকান, তারেক বিশ্বাসের হোটেল, আফজাল হোসেনের আলুর আড়ত, সাইদুল মোল্লার কাঁচা তরকারির আড়ত, মজিদ মণ্ডলের মুদিখানা, হারেজের কাঁচামালের আড়ত, কালুর মাছের আড়ত, আবুল কালাম আজাদের মুদি দোকান, সেলিম বিশ্বাসের সাইকেল পার্টস দোকান, সুশান্ত শিকদারের খাবার হোটেল এবং পলাশ শেখের কাঁচামালের আড়ত সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার কয়েকটি গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল ছিল, এছাড়া ক্যাশে ছিল ৯৬ হাজার টাকা। আগুন লাগার পর ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে পেরেছি, কিন্তু বাকি সবই পুড়ে গেছে। আমার ১৫ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে। এখন আমি কীভাবে এই ঋণ শোধ করব?অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়ে দ্রুত সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন।
বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ইনচার্জ সৈয়দ শরাফত আলী তুহিন জানান, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়।”তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


