যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এনফোর্সমেন্ট টিমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। ব্রিটিশ সরকার বলছে, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসনকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি জানিয়েছেন, দেশটিতে অনেকদিন ধরে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে লাগিয়ে নিয়োগকর্তারা লাভবান হয়েছেন। অন্যদিকে, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিশেষ করে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দেশটিতে প্রবেশের সংখ্যা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “অভিবাসন আইন অবশ্যই মানতে হবে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা অবৈধ অভিবাসীদের শোষণ করে আসছেন। ফলে অনেকেই নিয়ম ভেঙে এখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অভিবাসন সংকট আরও ঘনীভূত করছে।”
সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় এবং প্রত্যাবাসনের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে আসার চেষ্টা করছেন, বিশেষ করে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নিয়োগকর্তাদের ওপরও বাড়ছে নজরদারি
শুধু অবৈধ অভিবাসীদেরই নয়, যারা তাদের কাজে লাগাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট টিম দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে অভিযান চালাচ্ছে এবং সন্দেহজনক নিয়োগকর্তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপ অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কঠোর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে এবং দেশটির শ্রমবাজারকে আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে চায়।


