ঢাকার একটি আদালত সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ছয়জনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন। যাদের আয়কর নথি জব্দ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরী ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া মেসার্স এমএ ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিউলি আক্তার মুন্নি ও তার স্বামী আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী, অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্টার মোছা. রেহানা বেগম এবং তার স্বামী শরিয়তপুর সদরের সাব রেজিস্ট্রার একেএম ফয়েজ উল্লাহর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরীর বিরুদ্ধে ৫৭ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ২০০২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২১টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের আয়কর রেকর্ড সংগ্রহ করা জরুরি। আয়কর আইন অনুযায়ী, করদাতার রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট নথি আদালতের অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই আদালতের অনুমোদন নিয়ে এসব নথি জব্দের আদেশ চাওয়া হয়। আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের আয়কর নথির মূল কপি সংগ্রহ এবং পর্যালোচনার জন্য সত্যায়িত কপি সরবরাহের নির্দেশ দেন।
দুদক সূত্র জানায়, আলোচিত মামলাগুলোর তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযুক্তদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


