শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল ও তেলের দাম এখনও ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু ও পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী হলেও চাল ও তেলের বাজার এখনও অস্থির।
মাঘের মাঝামাঝি এসে বাজারে শাকসবজির সরবরাহ বেড়েছে। কারওয়ান বাজার, কেরানীগঞ্জ, শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সবজি বিক্রেতারা জানান, প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন সবজি আসায় দাম কমেছে। বাজারে বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা, শিম ২০ টাকা, এবং গাজর ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সবজির দামের এই পতনে সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও কৃষকদের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরানীগঞ্জের এক সবজি বিক্রেতা রনি বলেন, “আমরা কম দামে বিক্রি করছি, কিন্তু কৃষকদের লাভ হচ্ছে না। উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।”
গত মাসের তুলনায় আলুর দাম অনেকটাই কমেছে। খুচরা বাজারে নতুন আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা পাইকারি পর্যায়ে ১৬-১৮ টাকা। পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজের দাম ৪০-৪৪ টাকা, যা গত মাসের তুলনায় কম।
সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও চালের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকা, আর মোটা চাল ৫২-৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে তদারকি না বাড়ালে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। তেলের বাজারেও অস্থিরতা অব্যাহত। বোতলজাত সয়াবিন তেল এক মাস আগের মূল্যবৃদ্ধির পরও সংকটে রয়েছে। এক ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যা পাওয়া যাচ্ছে, তা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বোতলজাত তেলের চেয়েও বেশি। ভোক্তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশও স্বীকার করেছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে।
সবজির দাম কমলেও কৃষকদের লোকসান হচ্ছে। আলু ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও চাল ও তেলের বাজার এখনও অস্থির। বাজারে সঠিক মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে সামনে চাল ও তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


