ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘কওমি উদ্যোক্তা সম্মেলন ২০২৫’-এ একজন নারী সাংবাদিকের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আয়োজকরা বিষয়টিকে ‘একটি ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অনেকেই এ ঘটনাকে লিঙ্গ বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তবে তিনি সাংবাদিকের প্রবেশে বাধার বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইউএনবির সাংবাদিক এমি জান্নাত জানান, বিকেল ৩টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, কিন্তু গেটের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে জানান, “আপনি তো ঢুকতে পারবেন না, কওমি উনাদের প্রোগ্রাম, উনারা মানা করেছেন।” পরে একাধিকবার অনুরোধ করেও তিনি প্রবেশের অনুমতি পাননি।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমি জান্নাত ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি প্রশ্ন করেন, “একজন নারী সাংবাদিক শুধু তার পরিচয়ের কারণে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবে না—এটা কতটা অবমাননাকর?” তার পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাংবাদিক মহলে প্রতিবাদের সৃষ্টি করে।এ বিষয়ে আয়োজক সংগঠন ‘কওমি উদ্যোক্তা’ প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা রোকন রাইয়ান বলেন, “আমাদের নীতিতে নারীদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। তবে কোনো একজন ব্যক্তি হয়তো এমন আচরণ করেছেন, যা আমাদের নীতি নয়।” তিনি জানান, একই অনুষ্ঠানে আরেকজন নারী সাংবাদিককে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা প্রমাণ করে এটি পরিকল্পিত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।
ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেনও বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি উদ্যোক্তাদের জন্য এই সম্মেলনকে ইতিবাচকভাবে দেখেছি। তবে নারী সাংবাদিকের প্রবেশ নিয়ে যা ঘটেছে, তা আমার জানা ছিল না।” তবে অনেকেই মনে করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাংবাদিকদের একাংশ বলছেন, নারীদের গণমাধ্যমে কাজ করতে গেলে এ ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়, যা লিঙ্গ সমতার পরিপন্থী।
এই ঘটনা কওমি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নারী অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আয়োজকরা এটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করলেও সাংবাদিক মহল থেকে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখপ্রকাশের দাবি উঠেছে।


