দেশে সরকারি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে আগামী মাস থেকেই প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভূমি, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। এরপর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও পৃথক নিবন্ধন ব্যবস্থা রাখা হবে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, বিভিন্ন সরকারি সনদ ও ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল সংরক্ষণ করা যাবে। প্রয়োজনে এটি পরিচয় যাচাই এবং সরকারি সেবায় লগইনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে। পুরো ব্যবস্থায় নাগরিকের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই এ প্ল্যাটফর্ম পরিচালিত হবে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ডি-স্টার (Digital Service Transformation for Access and Resilience) প্রকল্পের আওতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।


