উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির চাপ সামাল দিতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। হঠাৎ করে পানি আরও বৃদ্ধি পেলে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি এবং নিচু এলাকার কৃষিজমি নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিন ধরেই পানির ওঠানামা চলছে। এতে অনেক জমিতে চাষাবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মতে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। রাতের মধ্যেই কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। বড় ধরনের ঢল নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীসংলগ্ন এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুতি জোরদার করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুতের কাজও চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


