ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন স্কিম (আরডিএস) নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদে তিনি যে ঋণ বিতরণের পরিমাণের কথা উল্লেখ করেছেন, তা ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে অমিল বলে দেখা যাচ্ছে।
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বে ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণের পর আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার বড় একটি অংশের সঠিক তথ্য বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।
তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্পে বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই নিয়মিতভাবে আদায় হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষে ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজারের বেশি গ্রামের প্রায় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবার এ সুবিধা পেয়েছে।


