ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় গাইডলাইন বাস্তবায়নসংক্রান্ত এক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব নির্দেশনা দেন। সভায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, প্যাথলজি ল্যাব, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষার খরচে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ফি গ্রহণ না করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ওষুধ ও খাদ্যসংক্রান্ত ব্যয় রোগীকেই বহন করতে হবে।
সভায় ডেঙ্গু চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ওষুধ প্রয়োগের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, ছাদ কিংবা আশপাশে মশার লার্ভা জন্মানোর পরিবেশ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর ও সর্বজনীন স্বীকৃত ডেঙ্গু টিকা এখনো না থাকায় দেশে আপাতত কোনো গণটিকাদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নেই।


