রাজধানীতে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা সেমিনারে টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব প্রাণিখাদ্য এবং আধুনিক গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি এখন সময়ের দাবি।
বুধবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এবং অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার বিকল্প নেই। বিশেষ করে খরা-সহিষ্ণু ও উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ঘাস উদ্ভাবনের ফলে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং খামারিরা লাভবান হবেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। তাই বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে। গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রাণিখাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে মাংস ও দুধ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তিনি গবেষণা কার্যক্রমে তরুণ বিজ্ঞানীদের আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে টেকসই গরুর মাংস উৎপাদন, জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা এবং কম ব্যয়ে প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।


