রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় দীর্ঘদিন ফুটপাতে মানবেতর জীবনযাপন করা গোলাপি বেগমের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বলেছে। তার জন্য স্থায়ী আবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, গোলাপি বেগমের দুর্দশার বিষয়টি প্রথমে জনসম্মুখে আসে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের মাধ্যমে। তার করুণ জীবনযাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে এলে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে তার চিকিৎসা, অস্থায়ী আবাসন এবং সার্বিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীতে একটি ভাড়া বাসায় তার থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং চিকিৎসার খরচ বহন করা হয়। এই সময়ের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থারও উন্নতি ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নিজ এলাকায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। তারা আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।
স্থানীয়রা জানান, গোলাপি বেগমের জন্য এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে এবং তিনি একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন পাবেন। এই উদ্যোগকে অনেকেই মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে আরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।


