বাংলাদেশের আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দুই দশকে কমিশনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২০ বছরে আইন কমিশনের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ এই সময়ে কমিশন ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করলেও বাস্তবে কার্যকর হয়েছে মাত্র আটটি। প্রতি বছর জনগণের অর্থ থেকে আট থেকে দশ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও তার তুলনায় অর্জন খুবই সীমিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রচলন কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে অবসরের পর বিচারপতিদের বিভিন্ন লোভনীয় পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের করপোরেট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ বা বিভিন্ন আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের প্রবণতা বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
আইন পেশার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা জরুরি। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বর্তমান ব্যবস্থায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এর বাজেট বৃদ্ধির বিষয়েও কাজ চলছে। আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।


