শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই হবে না, বরং কোন খাতে কতটা গুরুত্ব দিয়ে ব্যয় করা হবে, তা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন উপলক্ষে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন মন্ত্রী।
শিক্ষার্থীরা ক্লাস অনিয়ম, পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং কারিকুলামের অসামঞ্জস্যসহ নানা সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাই অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি দক্ষ ও মানবসম্পদনির্ভর জাতি গঠন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবু হানিফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


