ঈদুল আজহার আগেই দেশব্যাপী হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করছে সরকার। আগামী ২১ মে’র মধ্যে দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আবারও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে টিকা কার্যক্রমে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল এলাকায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এরপর ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, প্রথম ধাপে উচ্চঝুঁকিতে থাকা ৩০টি এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে টিকা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কর্মসূচি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ নারী হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকার আশা করছে, সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে হামের সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং শিশুমৃত্যুরঝুঁকি কমবে।


