রাজধানীতে চাঁদাবাজি দমনে জোরালো অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে ৯৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত অপরাধীও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। রোববার (৩ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এ তথ্য জানান।
ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের নানা সরঞ্জাম ও প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজি দমনে এই অভিযান চলমান থাকবে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা তদবিরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না।
ব্রিফিংয়ে মো. সরওয়ার সতর্ক করে বলেন, অপরাধীদের পক্ষে কেউ তদবির করতে এলে তাকে একই চক্রের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদাবাজির পাশাপাশি রাজধানীতে ছিনতাই ও অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বাজারগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে কয়েকটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ডিএমপি সূত্র আরও জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে রায়েরবাজারে নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


