সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ ও তদন্তের আলোচনা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অতীত কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তিনি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন।
বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন সময়কার ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। সে সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহও আলোচনায় এসেছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তার কিছু মন্তব্য ও কার্যকলাপ সরকারকে বিব্রত করে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়েও নতুন করে তদন্তের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট কিছু প্রকল্প ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়া, অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ এবং বিভিন্ন চুক্তিতে অনিয়মের সম্ভাবনা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীত ও বর্তমান—দুই সময়ের ঘটনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সাবেক সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর এই ইস্যুটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


