সংবিধান সংস্কার ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা রাজপথ থেকে সংসদ—সব জায়গায় প্রভাব ফেলছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ‘হ্যাঁ’ আসার পর সংবিধান সংস্কারের দাবি জোরালো হয়। তবে সরকার বলছে, সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে এবং এজন্য সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, জনগণের স্পষ্ট মতামত উপেক্ষা করে সরকার নিজেদের সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোট ইতোমধ্যে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করছে, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া বিলম্ব করা যাবে না। এ লক্ষ্যে সমাবেশ, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক সমঝোতার অভাব থাকলে দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সংবিধান সংস্কার ইস্যু এখন দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান যদি আরও কঠোর হয়, তবে সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


