বিশ্ববাজারের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি মাসের মতো এবারও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সরকার দাম নির্ধারণ করবে।
সোমবার সচিবালয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং দেশের মজুত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে চায় যাতে ভোক্তা ও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত সরকারের কাছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে এবং এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল আমদানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আসন্ন মাসে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, অকটেন ও পেট্রলের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এ খাতে চাপও সীমিত রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল, যা মূলত কৃষিতে সেচ কার্যক্রম এবং গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের দামের বিষয়ে আজকের সিদ্ধান্ত দেশের বাজার ও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


