পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকদের জন্য সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে এটি একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। এদিন একই অনুষ্ঠানে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক (পাইলট) ভিত্তিতে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলার নির্ধারিত ব্লকে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, ইসলামপুর, শৈলকুপা, নেছারাবাদ, জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং টেকনাফ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রত্যেককে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা সমমূল্যের ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া খরিফ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে কৃষক কার্ড চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিক উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সহায়তা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


