দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে। আগামী মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই হাসপাতাল শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য একটি ভরসার কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা প্রদান করেন। ফলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান নির্ধারণে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে হাসপাতালটির অবদান তুলে ধরে বলেন, এখান থেকে অনেক দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হয়েছেন, যারা দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সরকারি হাসপাতালে সিট, ট্রলি ও ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন। রমজান মাসে সকলকে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে।


