আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদকে অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১১ জানুয়ারি তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর কাছে চিঠি দেন তখনকার চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিভিন্ন অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত আচরণসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে এ আবেদন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথি বাইরে সরবরাহ করেছেন, যা বিচারাধীন সংবেদনশীল মামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসিকিউশন কার্যালয়ের অনুমোদন ব্যতীত এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও সুনামের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনে এক নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই প্রহরীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন টিমের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য এবং মামলার সাক্ষী-ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অননুমোদিত যোগাযোগের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগপত্র ও একটি ব্যক্তিগত লিখিত অভিযোগ সংযুক্ত করা হয় বলেও জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের আশঙ্কা থেকেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কোনো ধরনের শোকজ বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ না দিয়ে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হলে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সম্প্রতি সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে আইন অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


