নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর আমির শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নির্বাচনের ফলাফলকে হতাশার কারণ না বানিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি “ভিত্তি” হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত রাত ও শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে তিনি বলেন, ভোটের ফল নিয়ে অনেকের মধ্যে হতাশা থাকলেও দলীয় প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। আগের তুলনায় আসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে দল একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই এটিকে পরাজয় নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার একটি ধাপ হিসেবে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান দাবি করেন, নির্বাচনের পর ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষায়, জনগণের ম্যান্ডেট কোনো পক্ষের জন্য লাইসেন্স নয়; এটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সমর্থক ছাড়াও ১১-দলীয় জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আসন্ন সরকারের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দেশে যেন আর ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে না আসে—এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


