সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। একসঙ্গে দুটি ভোট নেওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফল ঘোষণা কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার এবং সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটও গণনায় যুক্ত হওয়ায় আরও সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের ফল ধাপে ধাপে তৈরি হয়। প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে প্রতিটি কেন্দ্রের ফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি কন্ট্রোলরুমেও আলাদাভাবে ফল যাচাই করা হয়। যদি ভোটকেন্দ্র ও ফল ঘোষণাকেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকেন, ফল পরিবর্তন বা কারচুপি করা প্রায় অসম্ভব। তবে অতীতে কিছু কেন্দ্রে বিরোধী এজেন্টদের বাইরে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
ভোট শেষ হলে প্রতিটি কক্ষে থাকা ব্যালটবক্স লক করে গণনা কক্ষে নেওয়া হয়। গণনার জন্য বিশেষ কক্ষ প্রস্তুত করা হয়, যেখানে প্রার্থীর একজন করে এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকেন। প্রথমে ব্যালট খুলে মেঝেতে রাখা হয় এবং সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট ও গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হয়। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়া বা ছেঁড়া ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতীকভিত্তিকভাবে ব্যালট গণনা করা হয়। গণনার পর কেন্দ্রভিত্তিক ফল শীট (ফরম ১৬) প্রস্তুত করা হয়, যা অংক ও কথায় লেখা হয়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট স্বাক্ষর করার পর সাতটি সেট তৈরি করা হয়। এক কপি কেন্দ্রে টাঙানো হয়, দুটি কপি ব্যালটের সাথে সিল করে রাখা হয় এবং বাকি কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
কেন্দ্র থেকে ফল সংগ্রহের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনায় যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। প্রার্থীরা বা তাদের এজেন্ট সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন। যদি কারও আপত্তি থাকে, পুনঃগণনার জন্য কমিশনে আবেদন করতে পারেন বা নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয় এবং ভোটের ফলের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় থাকে।


