গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত শিশু মোহনার (১১) শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, মোহনার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে তিনি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি বলেন, মোহনার সঙ্গে যা ঘটেছে তা পুরো জাতির জন্যই লজ্জাজনক। শিশুটির চিকিৎসা ব্যয়সহ ভবিষ্যতের সকল দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।
শিশু মোহনাকে উদ্দেশ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তুমি একা নও, সরকার সব সময় তোমার পাশে আছে।” তিনি শিশুটিকে মানসিকভাবে সাহস জোগান এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমান বাংলাদেশের এমডি ডা. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।
এদিকে, বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “একজন শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীরা আইনের আওতায় এসে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে একটি চাকরির ব্যবস্থার আশ্বাসও দেন।
উল্লেখ্য, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ৩১ জানুয়ারি গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


