নীলফামারীতে গণভোট বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোটে মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের মতামত দমন করা গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হওয়া উচিত।
রোববার দুপুরে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহিহীনতার ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এর ফল হিসেবে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের মতো ঘটনা সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো রাজনৈতিক শক্তি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সহজ হবে এবং সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। এতে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন বাড়বে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—উভয় মত প্রকাশের সুযোগ থাকা গণতন্ত্রেরই অংশ। যারা ‘না’ পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, সেটিও তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের, আর সেই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই আসা উচিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর, পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।


