গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে হিসাবরক্ষণে কারচুপি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব শুধু রাষ্ট্রীয় কোষাগারেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ এশিয়ার পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে অর্থনীতি, হিসাবরক্ষণ ও নীতিশাসন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সুশাসন ও স্বচ্ছতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতে যেসব দুর্বলতা ও অনিয়মের সুযোগে অর্থ পাচার হয়েছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণ পেশাজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সততা, নৈতিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে। বিশেষ করে আধুনিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই রিপোর্টিং ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
আঞ্চলিক প্রসঙ্গ টেনে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করা গেলে অঞ্চলটি আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হতে পারে।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নেক্সট জেনারেশন প্রফেশনালস: কনভার্জিং এথিক্যাল এআই অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং’। এতে বক্তারা নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পেশাজীবীদের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।


