জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার পর শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের ক্ষেত্রে ৩৮টি ভোটকেন্দ্র এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভোটগ্রহণ শেষ হলে ছয়টি ডিজিটাল ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) মেশিন ব্যবহার করে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ও গণনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট শুরুর আগের রাতেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠানো হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এর আগে একাধিকবার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ধার্য থাকলেও ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগে ভোরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবরে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তারা আন্দোলনে নামেন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরেকটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে এবং আজ ৬ জানুয়ারি নতুন তারিখে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠন গঠনের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


