দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছর পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তার এই প্রত্যাবর্তন দেশীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স আলাদাভাবে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের আগে তার প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিবিসি আরও জানায়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার জিয়ার সদস্য। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছিলেন।
অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দলীয় সূত্রগুলো মনে করছে, তার নেতৃত্বে বিএনপি আগামী নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে। রয়টার্স তাকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যা দেয়।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা স্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দেন এবং ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই প্রত্যাবর্তন আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনী সমীকরণে নতুন গতি আনতে পারে।


