ডিজিটাল অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগেই হাদির ঘনিষ্ঠ পরিবেশে যাতায়াত করতেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে গিয়ে হাদির পাশে বসে আলোচনাও শুনেছিলেন বলে জানা গেছে।

ডিজিটাল ইনভেস্টিগেটিভ মিডিয়া দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, হাদির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি এবং ৯ ডিসেম্বর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে উপস্থিত এক ব্যক্তির ছবি তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে তাদের মধ্যে চেহারার মিল পাওয়া গেছে। এ বিশ্লেষণে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ৫০টির বেশি ছবি যাচাই করা হয়।
দ্য ডিসেন্টের তথ্যমতে, এই তিন ঘটনার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামের এক ব্যক্তির মিল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ছবিতে গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তির বাম হাতে থাকা বিশেষ নকশার ঘড়ির সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদের পরা ঘড়ির মিলও দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ অতীতে আদাবর থানা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। সে সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীদের পরিচয় ও পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


