তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত রবিবার রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে মেট্রো ঢাকা বিপণন বিভাগ-১ এর আওতাধীন দনিয়া, কদমতলী ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আল রাব্বি ওয়াশিং ও ভাই ভাই ওয়াশিং সার্ভিসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং প্রায় ৬০০ মিটার পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাসের ১৫৫ ফুট এমএস পাইপ, ২০০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ ও দুইটি বুস্টার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ভাই ভাই ওয়াশিং সার্ভিসকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রুপগঞ্জ বিপণন বিভাগের আওতাধীন ঝাউগড়া, নাগেরচর ও কৃষ্ণপুড়া এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১,২০০টি বাড়ির ১,৫০০টি ডাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ৩,১০০ ফুট এমএস পাইপ অপসারণ করা হয়। অবৈধ চুনা কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপিত ২ ইঞ্চি ডায়া পাইপ সম্পূর্ণরূপে কেটে জব্দ করা হয়।
এছাড়া আশুলিয়া অঞ্চলে তিতাসের আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের উদ্যোগে গোরাট পাকার মাথা ও ইউসুফ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫০টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে প্রায় ৯০০ ফুট পাইপলাইন জব্দ হয় এবং মাসিক প্রায় ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার গ্যাস চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে তিতাস গ্যাসের ভিজিল্যান্স বিভাগ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালায়, যার মধ্যে এপি নিট কটন, রয়া ডাইং, আজাদ রিফাত ফাইবার্স, স্যামসন উইন্টার ওয়্যারসহ ১০টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে তেমন কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৭৪,০২৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৬টি শিল্প, ৫৩২টি বাণিজ্যিক ও ৭৩,০৯৭টি আবাসিক সংযোগ অন্তর্ভুক্ত। এই সময়ে ১,৫৮,১৪৬টি বার্নার অপসারণ এবং ৩১০ কিলোমিটার পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে এ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।


