বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে (বেবিচক) আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পর এবার গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। সংস্থার পরিচালক (অডিট) মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি ৬ নভেম্বর গঠন করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত পরামর্শক নিয়োগে অনিয়মের দায় নির্ধারণ করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেবিচকের এফএসআর সদস্য এয়ার কমোডর মুকিতুল আলম মিয়া জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। কমিটি যাচাই করবে—পরামর্শক নিয়োগে ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময় বহু অযোগ্য পরামর্শকের চুক্তি ‘অডিটের অজুহাতে’ বারবার নবায়ন করা হয়। অথচ আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) অডিট তখনো বহু দূরে ছিল। এমনকি মেয়াদ শেষ হলেও অনেক পরামর্শক বিনা বেতনে মাসের পর মাস দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ৪৬ জনকে বৈধতার চিঠি দেয় বেবিচক, যেখানে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ ২০০৬) ও পিপিআর ২০০৮-এর বিধান উপেক্ষা করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নিয়োগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এসব পরামর্শকের মধ্যে অনেকে অযোগ্য ও অদক্ষ। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ মাসে কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতো। একজন বিশেষ পরিদর্শক পেতেন সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে ৫৪ জন পরামর্শকের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক অডিটেও দেশের বিমান খাতের ভাবমূর্তি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।


