রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দিনরাত কাজ করছেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, মানুষ সুশাসন চায়, তবে তা একদিনে সম্ভব নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কার কার্যকর করতে ১০-১৫ বছর সময় লেগেছে, যেমন নেপালে এই ধরনের সংস্কার করতে ৯ বছর লেগেছে।
এ ছাড়া, তিনি বলেন, নারী ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন ওঠে, তা সঠিক নয়। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোতে সব শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিত্ব সনদে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি এআই প্রযুক্তির প্রসারকে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, রেল প্রজেক্টে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পের সব কিছুই গোপালগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
প্রেস সচিব রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানিয়েছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকারীরা সন্ত্রাসী এবং দেশের মানুষকে হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দৃঢ়ভাবে নিতে হবে।
শফিকুল আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরাপদ ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধভাবে পরিচালনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।


