নতুন ইন্টারনেট নীতিমালার প্রস্তাবিত ফি ও চার্জ সাধারণ গ্রাহকের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, খসড়া গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আর্থিক শর্ত প্রয়োগ হলে সারা দেশের ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীদের খরচ বাড়বে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
আইএসপিএবি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিভিন্ন নতুন ফি, পুনর্নবায়ন চার্জ এবং প্রশাসনিক ব্যয় যোগ হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আইএসপি কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে এবং তার প্রভাব অনিবার্যভাবে গ্রাহকদের ওপর এসে পড়বে।
আইএসপিএবির একজন প্রতিনিধির ভাষ্যে, নীতিমালাটি কার্যকর হলে সাধারণ গ্রাহকের ইন্টারনেট বিল প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি এফটিএসপি (ফ্ল্যাট ট্যারিফ সার্ভিস প্রোভাইডার) পর্যায়ে ক্রয়মূল্যও অন্তত ১৪ শতাংশ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। “এই বৃদ্ধি প্রায় নিশ্চিত,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সুবিধার কথা ভেবে এই বিষয়ে সরকারকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো বিস্তারে আইএসপিএবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। টেকসই ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সংযোগ বজায় রাখতে তাদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। “এখনই যদি খরচ বেড়ে যায়, ডিজিটাল সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে যাবে এবং সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করার উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবির সহ-সভাপতি নেয়ামুল হক খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব আলমসহ সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। নেতারা সবাই একমত হয়ে বলেন, নীতিমালার লক্ষ্য অবশ্যই খাতের উন্নয়ন; তবে বাস্তব পরিস্থিতি এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় এতে সংশোধন প্রয়োজন।
তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যা গ্রাহকবান্ধব এবং ইন্টারনেট শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।


