দেশে এখনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের হালাল পণ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। অনেকেই মনে করেন, হালাল শিল্প বড় পরিসরে গড়ে উঠলে প্রচলিত কিছু খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এই ভুল ধারণাও অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে আছে।
বাংলাদেশের হালাল শিল্প বিশ্ববাজারে বড় সম্ভাবনার দ্বার খুললেও দেশের ভেতরে খাতটি এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে। সচেতনতার অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও সমন্বিত জাতীয় নীতির অনুপস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না হালাল পণ্য খাত।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের হালাল শিল্পখাতের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান খাত সংশ্লিষ্টরা। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) সহকারী অধ্যাপক ড. মমিনুল ইসলাম।
এসময় তিনি জানান, হালাল শিল্পকে ঘিরে দেশে এখনো সুসংগঠিত কোনো সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। অনেক উদ্যোক্তার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি বা উদ্যোগ দেখা যায় না। পাশাপাশি এ খাতে কাজ করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা অর্জনের সুযোগও সীমিত।
সভায় জানানো হয়, হালাল সনদ প্রদানে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকার ফলে ব্যবসায়ীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এতে খরচও বেড়ে যাচ্ছে। আবার, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থা থেকে এই খাত নিয়ে তেমন কোনো গবেষণাও হচ্ছে না। ফলে নতুন উদ্ভাবন বা উন্নয়নের পথও রুদ্ধ হয়ে আছে।
এসময় আরো জানানো হয়, হালাল শিল্প খাতে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, দেশে এখনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের হালাল পণ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। অনেকেই মনে করেন, হালাল শিল্প বড় পরিসরে গড়ে উঠলে প্রচলিত কিছু খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এই ভুল ধারণাও অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে আছে। বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হালাল পণ্যের উৎস হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেনি। দেশী কোম্পানিগুলোর হালাল পণ্য প্রচারেও ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালাল শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে, সমন্বিত জাতীয় হালাল নীতি, দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পরিচিতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।


