নির্বিঘ্ন সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর খুচরা বাজারে সবজি, মাছ ও মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কয়েকদিনের বৃষ্টিকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা কাঁচা মরিচ, লাউ, বরবটি, ঝিঙাসহ সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির কেজিপ্রতি দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতারা এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়, যা সাত দিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। ঢ্যাঁড়শের দাম এখন ৮০ টাকা, আগে ছিল ৬০-৭০ টাকা। ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। লাউ ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি সিম ২০০ টাকা, উস্তা ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেল ও ডালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। দুই লিটারের সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে ৩৮০-৩৮৫ টাকা হয়েছে। পাম তেল লিটারপ্রতি ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দামও বৃদ্ধি পেয়ে মাঝারি দানার প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা, ছোট দানা ১৫০-১৬০ টাকা এবং বড় দানা ১০০-১১০ টাকা।
মাছ-মাংসের দামেরও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায়, খাসি ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশের দামও বেড়েছে—মাঝারি আকারের ২৩০০-২৫০০ টাকা, বড় ১৭০০-১৮০০ টাকা, ছোট ৭০০-৭৫০ টাকা। রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, টেংরা ও চিংড়ির দামও যথাক্রমে ৩৫০-৪০০, ২৫০, ২২০-২৫০, ৪০০-৪৫০, ৮০০ ও ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ব্যবসায়ীরা বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দাম বাড়াচ্ছেন। ক্রেতারা দাবি করছেন, এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে নজরদারি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।


