দেশে জাল নোটের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক নিরাপত্তা উদ্বিগ্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে প্রচারিত ‘বিশেষ অফার’ ও সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ নোটের লেনদেন বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা সংগ্রহ করছে এবং অগ্রিম পাঠালে কুরিয়ার বা ক্যাশ হ্যান্ডওভার নামিয়ে সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, নকল টাকার গুণগত মান এখন অনেকাংশে উন্নত হয়েছে—কিছু নোট স্থানীয় ছাপাখালির নকশা অনুকরণ করে তৈরি। অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের বিশেষ দল কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে; গ্রেপ্তার ও জিহাদি মেশিনারিজ জব্দের তথ্য সরকারী সূত্রে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয়ে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের সতর্কতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল নোট প্রতিরোধে কাগজের সরবরাহ চেইন, ছাপাখালির নিরাপত্তা ও কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে যাচাই করা জরুরি। ব্যাংকগুলোকে উচ্চমানের নোট গ্রহণে আরও কড়াকড়ি বজায় রাখতে হবে এবং বিক্রি-ক্রয়কারীদের মূলসূত্র যাচাই করতে হবে।
আর্থিক জালিয়াতের সাথে জড়িত অনলাইন গ্রুপগুলোতে মিথ্যা গ্যারান্টি, স্যাম্পল শোর করে আস্থা অর্জন করা হচ্ছে—তাই বিনিয়োগ বা লেনদেনের আগে সহজেই তত্ত্বাবধানে থাকা প্রণালী পরীক্ষা করতে হবে। অপরদিকে গ্রামাঞ্চলে ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন; তাদের জন্য বিশেষভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও ব্যাংকিং নির্দেশনা প্রয়োজন বলে অভিমত।
আইনগতভাবে জাল মুদ্রা তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং দ্রুত বিচার দাবী করা হচ্ছে। জেলা ব্যাংক ও থানায় কর্মশালা চালু করে ক্যাশিয়ারদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো হবে। জনগণকে অনলাইনে অচেনা প্রস্তাবে সাড়া না দিতে বলা হচ্ছে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে ৯৯৯ অথবা স্থানীয় থানায় জানাতে বলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধে স্বচ্ছ নিয়োগ, কাগজের সরবরাহ চেইন নিরীক্ষা ও আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য। সবার অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সবাই বিশ্বাস।


