পাহাড়, নদী আর দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার বালুকাবেলার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কক্সবাজারকে বলা হয় দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তবে সমুদ্রস্নান, সৈকতে হাঁটা বা ইনানী-হিমছড়ি ভ্রমণ ছাড়া আধুনিক পর্যটকদের জন্য নতুন কোনো বিনোদন ব্যবস্থা না থাকায় আক্ষেপ বাড়ছে।
শুক্রবার ছুটির দিনে সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। কেউ জেটস্কি বা বিচ বাইক চালাচ্ছেন, কেউ ঘোড়ায় চড়ছেন। তবে দিন শেষে সীমিত বিনোদনের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। সিলেট থেকে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, “সাগর উত্তাল হলেও মজা পাচ্ছি, কিন্তু রাত নামলেই হোটেলেই থাকতে হয়।” একই অভিজ্ঞতা জানালেন ঢাকার পর্যটক সৈয়দ রেজা, “প্রতিবার একই দৃশ্য, নতুন কিছু নেই।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের থিম পার্ক, অ্যামিউজমেন্ট জোন কিংবা রাতের বিনোদনের সুযোগ না থাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইজের জিএম ইয়াকুব আলী ও সী-ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদনের ধীরগতির কারণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা মনে করেন, “সৈকতনির্ভর পর্যটন থেকে বেরিয়ে বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে হবে।”
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহীদুল আলম জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের দিন এ বছর কেবল র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
অপরিসীম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনার অভাব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিতে কক্সবাজার পর্যটন বিকাশে পিছিয়ে রয়েছে।


